Business idea

৩০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করার আইডিয়া

আপনি মাত্র ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সাধারণত ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে অল্প মূলধন বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করা শ্রেয়। তাই চলুন ৩০ হাজার টাকায় ব্যবসা আইডিয়াগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান সময়ের সব থেকে লাভজনক কয়েকটি ব্যবসা যেগুলো মাত্র ৩০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে শুরু করতে পারবেন। আপনার যদি ৩০ হাজার টাকা মূলধন থাকে এবং ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।

৩০ হাজার টাকায় ব্যবসা

ফার্মের মুরগির ব্যবসা, অনলাইনে ই-কমার্স ব্যবসা ও ফুড ভ্যানের ব্যবসা ইত্যাদি। এই ব্যবসা গুলো আপনারা মাত্র ৩০ হাজার টাকা মূলধন দিয়ে শুরু করতে পারবেন। চলুন ৩০ হাজার টাকার মধ্যে শুরু করতে পারবেন এমন ৫টি ব্যবসা আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

১.অনলাইনে ই-কমার্স ব্যবসা

অনলাইনে বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে ই কমার্স ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি প্রোডাক্ট নির্ধারণ করতে হবে এরপরে ব্যবসায়ের জন্য একটি ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ তৈরি করতে হবে।

অনলাইনে আপনারা সুন্দর সুন্দর ড্রেস, সিজনাল প্রোডাক্ট, আন্ডার গার্মেন্টস প্রোডাক্ট, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্ট, খাবার নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অনলাইনে ছোট পরিসরে একটি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার জন্য ৩০ হাজার টাকা মূলধন যথেষ্ট।

অনলাইনে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ তৈরি করে, এর মাধ্যমে আপনাদের প্রোডাক্টগুলোর প্রচারণা করে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারেন। এরপরে প্রোডাক্টগুলো বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে কাস্টমারদের বাসায় পৌঁছে দিতে পারেন।

২.ফার্মের মুরগির ব্যবসা

আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত থাকা জায়গা থাকে তাহলে একটি ফার্মের মুরগির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বিশেষ করে যারা গ্রামে বসবাস করে তাদের জন্য এই ব্যবসাটি করা অনেক সহজ হবে। ৩০,০০০ টাকা ইনভেস্ট করে ফার্মের মুরগির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

প্রথমে ১০,০০০ টাকা দিয়ে একটি মুরগির ঘর তৈরি করবেন। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগির ছানার দাম ২০-২৫ টাকা করে। আপনারা ৫,০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে ২০০ পোল্টি মুরগির ছানা ক্রয় করতে পারবেন। এরপরে ঔষধ ও বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা খরচ হবে।

বাকি ১০,০০০ টাকা মুরগির খাবারের জন্য খরচ হবে। আপনি ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সুন্দরভাবে একটি পোল্টি খামার বা ফার্মের মুরগির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এই ব্যবসা শুরু করার পূর্বে অভিজ্ঞ কোন ফার্মের মুরগির ব্যবসায়ীর থেকে পরামর্শ নিন।

আরো জানতে পারেনঃ পুরাতন লোহার ব্যবসা করার নিয়ম।

৩.ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি তৈরি

এটি ফ্রিল্যান্সিং এর একটি সেক্টর। আপনার কাছে যদি ১ বছর সময় থাকে এবং ৩০ হাজার টাকা মূলধন থাকে তাহলে একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি তৈরি করতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির কাজ হল বিভিন্ন কোম্পানির কিংবা ব্র্যান্ডের প্রচারণা করা / অ্যাড চালানো অথবা ট্রাকিং করা।

প্রথমে ১০,০০০ টাকা খরচ করে একটি মানসম্মত ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করে, কাজটি পরিপূর্ণ আয়ত্ত করে নিবেন। এরপরে বাকি ১৫,০০০ টাকা খরচ করে একটি প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিবেন।

বাকি টাকা দিয়ে কাস্টমার খোঁজার জন্য ফেসবুকে কিংবা গুগলে অ্যাড চালাবেন। যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ জানেন তাহলে খুব সহজেই একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি তৈরি করে আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৪.ফুড ভ্যানের ব্যবসা

আপনি যদি বার্গার, চটপটি ও ফুচকা, চিকেন ফ্রাই, কাবাব, টিক্কা, চিকেন রোল, হালিম ইত্যাদি তৈরি করতে পারেন তাহলে ফুড কোটের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। একটি ফুড ভ্যান ক্রয় করে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।

ফুড ভ্যানে করে পার্কে কিংবা স্কুল-কলেজের সামনে, কোন দর্শনীয় স্থানে এই ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারবেন। স্ট্রিট ফুড আইটেম প্রায় সবাই পছন্দ করে। তাই এটি হতে পারে আপনার জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া। ৩০ হাজার টাকায় সুন্দর মত এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।

৫.ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা

বর্তমানে মার্কেটে ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ধীরে ধীরে প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে এর পাশাপাশি  ইলেকট্রিক পণ্যের চাহিদা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ৮০% কাজ ইলেকট্রিক পণ্যের উপর নির্ভরশীল।

যেমন লাইট, ফ্যান, মাল্টিপ্লগ, সুইচ,গ্যাংবোর্ড, চার্জার, সকেট, স্ক্রু ড্রাইভার, টেস্টার, ক্যাবল ইত্যাদি। এই পণ্যগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। আপনি এই পণ্যগুলো অল্প দামে পাইকারি দোকান থেকে ক্রয় করে, ছোট একটি দোকানে অথবা ভ্যানে করে বিক্রি করতে পারেন।

আরো জানতে পারেনঃ তরুনদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া।

এই পণ্যগুলো ঢাকার নবাবপুর, স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে খুব কম দামে ক্রয় করতে পারবেন। ছাড়াও যদি আপনার ইলেকট্রিক কাজের উপর দক্ষতা থাকে তাহলে, মালামাল বিক্রির পাশাপাশি সার্ভিসিং এর কাজ করতে পারেন। এই ব্যবসাটি আপনি মাত্র ৩০,০০০ টাকায় প্রাথমিকভাবে শুরু করতে পারবেন।

আমাদের শেষকথা

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আশা করি ৩০ হাজার টাকায় ব্যবসা আইডিয়াগুলো সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। উপরে উল্লেখিত এই পাঁচটি ব্যবসা আইডিয়া বর্তমানে অনেক লাভজনক। এখান থেকে আপনার পছন্দের ব্যবসাটি খুঁজে বের করতে পারেন।

যেকোন ব্যবসা শুরু করার পূর্বে পূর্ব পরিকল্পনা করে নিবেন। এরপরে ওই ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে, মালামাল সংগ্রহ করে, সঠিক পন্থা অবলম্বন করে ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসার শুরুতে প্রথমদিকে অনেকেই কুমন্ত্রণা দিবে।

তবে মনে রাখবেন ব্যবসা করতে লজ্জার কিছু নেই। এখানে আপনিই আপনার বস। শুভকামনা রইল আপনার ব্যবসায়িক জীবনের জন্য। উপরে উল্লেখিত আইডিয়াগুলোর মধ্য থেকে কোন আইডিয়াটি আপনার সবথেকে পছন্দের তা কমেন্টে জানাবেন।

FAQs

ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

সাধারণত ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকায় আপনি প্রাথমিকভাবে ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এরপরে ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে এবং কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী বেশি টাকা ইনভেস্ট করে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারেন।

ব্যবসা করতে কি কি প্রয়োজন?

ব্যবসা করার জন্য প্রথমে আপনাকে পর্যাপ্ত মূলধন যোগাড় করতে হবে এরপরে কি প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা করবেন তা নির্বাচন করতে হবে। তারপরে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করে ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিকে আগাতে হবে।

Business Of BD

হাই,ব্যবসা নিয়েই আমার পড়াশোনা এবং ব্যবসা নিয়েই আমার ক্যারিয়ার। ব্যবসা নিয়ে লিখতে ভালবাসি, তাই ব্যবসা নিয়েই এই ব্লগটি করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button